1. netpeonbd@gmail.com : Desk Report : Desk Report
  2. netpeoneditor@gmail.com : Desk Report : Desk Report
  3. admin@irisnewsbd.com : irisnewsbd : Ali Siddiki
  4. raju.aamar.fm@gmail.com : Raisul Islam Chowdhury : Raisul Islam Chowdhury
  5. azizul.basir@gmail.com : Azizul Basir : Azizul Basir
  6. mdriyadhasan700@gmail.com : Riyad hasan : Riyad hasan
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
দিনের সেরা অংশ |
আজকের রাশিফল সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ফোল্ডেবল স্মার্টফোন জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে: স্বাস্থ্য অধিদফতর ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী সহ আরো ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা এসএসসি পরীক্ষা আগামী ৫ থেকে ১১ নভেম্বর এবং এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু আপডেট: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি অপেক্ষা শেষে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে আইপিএল ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নিঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন সময় টিভির রিপোর্টার তানভীর

করোনা এবং রাসেলদের ফিরে যাওয়া

সংবাদ সংগ্রহকারীঃ
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৩৭ প্রদর্শিত সময়ঃ
করোনা এবং রাসেল দের ফিরে যাওয়া
করোনা এবং রাসেল দের ফিরে যাওয়া

রাসেল চৌদ্দ বছর ধরে এই শহরে থাকে, ছোট একটা কোম্পানিতে কাজ করে সে, ধীরে ধীরে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে ৩ বছর আগে বিয়ে করেছিলো। ছোট সংসারটা গুছিয়ে নিয়ে সামনের সোনালি দিনের স্বপ্ন সবে মাত্র দেখা শুরু করেছিলো সে,করোনায় বন্ধ হয়ে যায় তার কোম্পানি, প্রথম দু-এক মাস ভালোই চলছিলো জমানো যা ছিলো তা দিয়ে চলতে তেমন সমস্যা হয় নি। এইতো একদিন-দুদিন সবঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না দিন দিন সব কিছুর অবনতি হতে থাকে, ঋণে ঋণে জর্জরিত হয়ে আস্তে আস্তে সব শেষ হতে থাকে তার, এক সময় ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করেও তিন বেলা খাবারের সংস্থান হয় না।

অর্থ না থাকলে সংসারেও সুখ থাকে না, রাসেল এখন বুঝতে পারছে কত বড় ভুল সে করেছে, জীবনে কিছুই সে সঞ্চয় করেনি। প্রতিদিন পাওনা দারের তাগাদা, বাড়িভা, নানা বিল কি হবে কি ভাবে হবে ? কোথাও কোন কাজের সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত এই শহর ছেড়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে গ্রামে, এই শহরে তার কিছু নেই, এই শহরও তাকে চায় না। চোখের জলে শেকড়ের সন্ধ্যানে ফিরে যাওয়া তার। এই গল্প এই করোনা কালে খুবই কমন গল্প। হাজার নয় লাখ লাখ মানুষের এই একই গল্প। নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে নিন্মবিত্ত মানুষের গল্প। করোনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই শহর কেবল বিত্তবানের শহর। এখানে টিকে থাকবে তারাই যাদের বিত্তের জোড় আছে । আমাদের কম বেশি সবারই সঞ্চয় নিয়ে কোন ভাবনা নেই। যা আরেকটি বড় ভুল, এই করোনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে সেটিও দেখিয়ে দিয়েছে। যখন সবাই এক সাথে বিপদে পতিতো তখন কে কার কাঁধে হাত রাখবে?

পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি ওলট-পালট করে রেখে দিয়েছে করোনা মহামারী। দেশে দেশে একি গল্প সবার, তবে আমাদের গল্পগুলি খানিকটা ভিন্ন। এখানে হাজার কোটি টাকার মালিকরা ২ মাস তাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখতে পারে না, তাদের শ্রমিকদের চালাতে পারে না। পান থেকে চুন খসলে তাদের প্রনোদনা লাগে। তাহলে এতো বছর ধরে তারা যা আয় করলো সেটা কোথায় এই প্রশ্ন মনে আসতেই পাড়ে কিন্তু উত্তর পাবার আশা নেই।
শ্রমিকের রক্ত চুষে খাবার যে ইতিহাস তা এক চলমান প্রক্রিয়া এর পরিবর্তন সহসা হচ্ছে না বলেই প্রতিয়মান হয়। এখানে কাজ করলে অর্থ পাবে না হলে কিছুই নয়। তা সে লকডাউন হউক আর যাই হউক। তার প্রমান আমরা দেখেছি হাসেম গ্রুপের ফ্যাক্টরি তে, আর গারমেন্টের কথা নতুন করে কি বলবো। এখানে শ্রমিক হলো শুধুই এক মেশিন যা বন্ধ থাকলে তার কোন মুল্য নেই। তবে ভয়াবহতা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ধেয়ে আসছে মহামন্দা ধারণা করা হচ্ছে এই মহা মন্দা ১৯২০ সালের মহামন্দা কেও হার মানাতে পারে। শিল্প ও নির্মান খাতে দিন দিন যে পরিমান ক্ষতি হচ্ছে তা অনুমিত প্রায় ১ হাজার ১শ কোটি ছাড়িয়ে গেছে আর এভাবে চলতে থাকলে অল্প দিনেই এই খাত সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়বে। তার মানে এই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলো মূল শ্রোত থেকে হারাবার পথা আছে।

ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । তার এক লেখায় বলেছেন ‘’প্রতি দিন কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতে গড়ে মোট অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৩ হাজার ৩শ কোটি টাকা । প্রতি দিনের এই চলতি ক্ষতির পরিমাণ লকডাউন অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে ঊর্ধমূখী হতে পারে যা এই মুহূর্তে হিসাব করা সম্ভব হয়নি । ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থায় অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাড়াবে কমপক্ষে ১ লক্ষ ২ হাজার ৩শ কোটি টাকা । যেহেতু পুরো এপ্রিল মাসকে করোনার ভয়াবহতা হিসেবে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাড়াবে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮শ কোটি টাকা । চীন, ইতালী, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে বলা চলে লকডাউন অবস্থা পুরো মে মাস এমনকি জুন মাসেও অব্যাহত রাখার প্রয়োজন হতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে মে মাস শেষে অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ দাড়াবে ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৮শ কোটি টাকা যা গত অর্থবছরের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ। মধ্য মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির পরিমাণ এই মুহূর্তে হিসাব করা সম্ভব না হলেও তা আঁছ করা অসম্ভব নয়।
এ থেকে কিছুটা হলেও আঁছ করা যায় সামনের দিন গুলি কতটা কঠিন হবে আমাদের জন্য। উৎপাদন মুখি যেকোন কিছুই আগা্মি দিনের পৃথিবীতে টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হবে তার সাথে দরকার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সঞ্চয়। তা সে যতই অল্পই হউক। কিছুটা হলেও সঞ্চয় করুন। মনে রাখবেন যখন এক সাথে সবাই বিপদে পতিতো তখন নিজের কাঁধে অন্যের হাত আশা করা বোকামি তার চেয়ে ভালো পা শক্ত করে দাঁড়ান।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

One response to “করোনা এবং রাসেলদের ফিরে যাওয়া”

  1. ফারজানা রহমান says:

    nice writing! করোনা যে কতকিছু শিখাচ্ছে আমাদের, অনেক কিছুই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর

কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । আইরিস নিউজ বিডি.কম,আইরিস মিডিয়া বাংলাদেশের একটি  প্রতিষ্ঠান ।

error: Content is protected !!