1. netpeonbd@gmail.com : Desk Report : Desk Report
  2. netpeoneditor@gmail.com : Desk Report : Desk Report
  3. admin@irisnewsbd.com : irisnewsbd : Ali Siddiki
  4. raju.aamar.fm@gmail.com : Raisul Islam Chowdhury : Raisul Islam Chowdhury
  5. azizul.basir@gmail.com : Azizul Basir : Azizul Basir
  6. mdriyadhasan700@gmail.com : Riyad hasan : Riyad hasan
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

করনায় চেনা পৃথিবীর বদলে যাওয়া রুপ

রাইসুল ইসলাম চৌধুরী
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ১০৩ প্রদর্শিত সময়ঃ
করনায় চেনা পৃথিবীর বদলে যাওয়া রুপ
করনায় চেনা পৃথিবীর বদলে যাওয়া রুপ

একটি ভাইরাস আমাদের চিরচেনা পৃথিবী বদলে দিয়েছে,সামাজিক জীবন থেকে অর্থনীতি সব কিছু বদলে গেছে, করনার প্রভাব যতটা না বাইরে পরেছে তার চেয়ে ঢের বেশি আমাদের মন জগতে এর প্রভাব আর এই প্রভাব হবে সুদুর প্রসারী, আগামী কয়েক প্রজন্ম এই প্রভাব বয়ে বেড়াবে।
COVID-19 এর কারণে আমরা অনেকেই মানসিক রোগী না হয়েও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। মূলত যেসব মানসিক বিপর্যস্ততা আমাদের অনেককেই কাবু করছে তার মধ্যে কতগুলো হল- উদ্বেগ বা Anxiety মানসিক চাপ বা Stress ,ভয় বা Phobia, অতিরিক্ত আতঙ্ক বা Panic Attack দীর্ঘদিন কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন বা লকডাউন ও নানা রকম মানসিক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। সে ক্ষেত্রেও আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে এ সময়টাতে আমরা মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারি এ সাময়িক পরিস্থিতিতে যে ধরনের মানসিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বিষণ্নতা, বিরক্তি (Irritability), মেজাজ বা রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা, হতাশা এমনকি শুরু হতে পারে দাম্পত্য কলহ।
করোনার এই সময়ে ঢাকায় তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। এ বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ঢাকায় বিবাহবিচ্ছেদ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে দৈনিক ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতি ৩৭ মিনিটে একটি তালাক হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ার পেছনে করোনার কারণের তৈরি হওয়া মানসিক, আর্থিকসহ নানামুখী চাপের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং যোগাযোগ কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। শুধু মাত্র ঢাকাতেই চলতি বছরের জুন থেকে অক্টোবর মাসে তালাক হয়েছে ৫ হাজার ৯৭০টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম-বেশি সবাই করোনার কারণে কোনো না কোনোভাবে চাপে আছে। এই পরিস্থিতি কত দিন চলবে, সেটির কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নেই। তাই সহিষ্ণুতার কোনো বিকল্প নেই। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধৈর্যশীল আচরণ করতে হবে।

অন্যদিকে বাবা-মায়ের বেকারত্ব ও আয় কমে যাওয়ার বড় প্রভাব সাধারণত পড়ে শিশুদের উপর। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তাতে আমাদের যারা দরিদ্র ও হত দরিদ্র তাদের সংখ্যা বেড়ে যাবে। নতুন অনেক পরিবার দারিদ্রের তালিকায় চলে আসবে। পরিবারের সদস্যদের যদি আয় কমে যায় তাহলে ওই উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর পরিবারের অন্য যারা নির্ভরশীল তাদের পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উপর খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিনের আবদ্ধ অবস্থা শিশুর সকল ধরনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। একটা শিশু যখন হাঁটতে শেখে, কথা বলতে, দৌড়াতে শেখে, ছবি আঁকে, নাচে এইসব জিনিস শিশুর বিকাশের একটা অংশ। শিশুর সকল ধরনের বিকাশ, বুদ্ধির বিকাশ এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিশুর সময় কাটানোর জন্য আরেকটা শিশুর দরকার হয়।
শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষায় যে ঘাটতি হচ্ছে আগামী বছরেও হয়ত সেটা কাটিয়ে ওঠা যাবে না। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের কাছে যে ধরনের পড়াশোনা হয় সেটা বাসায় হয়না। ক্লাসে ৪৫ মিনিটে সে যা শিখবে ওই একই বিষয় সে বাসায় শিখতে সক্ষম হচ্ছে না। চারিদিকে শুধু শঙ্কার আবহ শিশুর মনোজগতের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, এই প্রভাব কাটিয়ে ওঠা অনেক কঠিন হবে সামনে।

সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলে, স্কুল ক্লাস খুলে গেলে হয়ত আস্তে আস্তে শিশুরা আবার ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ কিন্তু, এই দিনটি কবে আসবে সেটা আমাদের কারো জানা নেই। তবে রাতের পর ভোর আসবেই এই আশা নিয়েই আমরা ঘুমোতে যাই, তাই করনার এই আঁধারও একদিন কেটে যাবে। তত দিন পর্যন্ত সবাই একটু সহনশীল হই, নিজেদের বন্ধনগুলো আকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করি, আর কঠোর ভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর

কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । আইরিস নিউজ বিডি.কম,আইরিস মিডিয়া বাংলাদেশের একটি  প্রতিষ্ঠান ।

error: Content is protected !!