1. netpeonbd@gmail.com : irisnewsbd :
  2. azizul.basir@gmail.com : Azizul Basir : Azizul Basir
আগামী বাজেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ - Iris News BD | দিনের সেরা অংশ
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

আগামী বাজেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ

সংবাদ সংগ্রহকারীঃ
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ১০ প্রদর্শিত সময়ঃ
irisnewsbd.com
irisnewsbd.com

করোনার কারণে আদিবাসী এবং অন্যান্য প্রান্তিক মানুষ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। করোনার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে তাদের জীবনে। তাই আগামী বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। রবিবার (২ মে) ‘নৃগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিকরণ বাজেট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই সুপারিশ করা হয়।নারীপক্ষের সদস্য রীনা রায়ের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম, নিরূপা দেওয়ান, রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং।

ওয়েবিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমাদের দলীয় কমিটমেন্ট আছে। কিন্তু কিছু বাস্তব বিষয় আছে, যা মাঠে গিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। তখন পরিস্থিতির কারণে সব সময় সবকিছু আমরা পারি না। আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের দিকে আদিবাসীদের এগিয়ে আনতে হবে। কোটা থাকতে হবে আরও কিছুদিন। আদিবাসীদের চাহিদার প্রতিফলন যাতে বাজেটে পড়ে সেই চেষ্টা করা হবে।’রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাজেটের বিষয়ে প্রতিবছরই এই ধরনের আলোচনা করা হয়। এখন উদ্যোগ নেওয়াই মূল বিষয়। গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো এবং বরাদ্দ পাচ্ছে কিনা তা দেখাই এখন মূল কাজ। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ শান্তিচুক্তি করার জন্য, কিন্তু এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। একের পর এক উদ্যোগের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন আর হয় না। আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগম বলেন, ‘কীভাবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা সমাধানে আলাদা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ একটি জরুরি জিনিস। যেসব জায়গায় গ্রিড দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে না সেখানে সোলার দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বিষয়গুলো আনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো আরও যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার।’মূল প্রবন্ধে সঞ্জীব দ্রং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য দশ দফা সুপারিশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে আদিবাসী এবং অন্যান্য প্রান্তিক মানুষদের জীবনে। তাই আগামী বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করছি। এবার জাতীয় বাজেটে অতীতের মতো আলাদা অনুচ্ছেদ যুক্ত করে আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট বরাদ্দ সাধারণত হয় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক। সমতলের আদিবাসীদর জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোর বাজেট বৃদ্ধি করা দরকার। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সামাজিক ক্ষমতায়নের বাজেটে আদিবাসী উপকারভাগী যাতে নিশ্চিত হয়, সেজন্য এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া, উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরী শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী ও তরুণদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা দরকার। এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগণ ও সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা এবং এজন্য একটি ম্যাকানিজম তৈরি করা দরকার।’জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘বাজেট তো প্রতিবছরই হয়। আদিবাসীদের কর্মসংস্থানের অভাব। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষ অনেক গরিব। অনেক গ্রাম আছে কোনও ভূমি নেই। অনেকেই খাস জমিতে থাকেন। বসতভিটা নেই। বাজেট বাড়াতেই হবে। সামাজিক বেষ্টনীর বরাদ্দের টাকা আদিবাসীরা পায় না। উপদেষ্টা কমিটি থাকা দরকার। কখন কাকে দেওয়া যায়। আদিবাসীদের জমি সব শেষ। ভূমি কমিশন হলে তারা হয়তো তাদের ভূমির নিরাপত্তা পাবে। জমি যদি হারিয়ে ফেলে তাহলে তাদের জীবনটাই হারিয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু জাতির দেশ। এই কথা বার বার উপেক্ষিত হয়েছে। শান্তিচুক্তির কারণে যে সুফল আমাদের পাওয়ার কথা তা আমরা পাচ্ছি না। এ বছরের বাজেটে যারা নিগৃহীত জাতি তাদের গুরুত্ব দেওয়া, তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ করা দরকার। সমতলের আদিবাসীরা অনেক বেশি অবহেলিত। মন্ত্রণালয়ে যদি দুটি ভাগ করা যায় সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী, তাহলে সমতলের আদিবাসীরা গুরুত্ব পেতে পারে।’জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন, ‘আদিবাসীরা ঠিকমতো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা তো পায়ই না। বছরের একটা সময় খাদ্য ও পানির অভাব দেখা দেয়। তাদের এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রর উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া। এসব সমন্বয় করেই বাজেট বরাদ্দ করা উচিত। শুধু বাজেট বরাদ্দ দিলেই হবে না সেটা তারা পাচ্ছে কিনা তাও দেখতে হবে।’

চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘প্রান্তিকতা দূর করতে না পারলে বাজেটে বরাদ্দ দিলেও লাভ হবে না। এই মুহূর্তে পাহাড়ে প্রায় ৮৪ হাজার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু আছে। তাদের কেউ এক ফোঁটা চালও পায় না। রিজার্ভ ফরেস্ট আছে অনেক, প্রচুর জমি লিজ দেওয়া, ফলে তাদের বাসস্থানের জায়গাই তো নেই। উপজেলা, ইউনিয়নগুলোতে বিশেষ বরাদ্দ যাতে দেওয়া হয়। আঞ্চলিক পরিষদ তাহলে সরাসরি কাজ করতে পারবে। প্রচুর মানুষকে এখনও ত্রাণ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তিন এলাকায় ত্রাণ দিয়েছে। এই ত্রাণ আরও বাড়াতে হবে।’এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন– সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সমতলের নৃগোষ্ঠীদের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মাথুরা বিকাশ ত্রিপুরা প্রমুখ।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Comments are closed.

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আইরিস মিডিয়া বাংলাদেশ
error: আইরিস এর অনুমতি নাই !!!