1. netpeonbd@gmail.com : irisnewsbd :
  2. azizul.basir@gmail.com : Azizul Basir : Azizul Basir
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৪ অপরাহ্ন

কাশ্মিরে ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা স্বীকার করলো ভারতীয় সেনাবাহিনী

সংবাদ সংগ্রহকারীঃ
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৫ প্রদর্শিত সময়ঃ
irisnewsbd.com
irisnewsbd.com

এ বছর জুলাই মাসে করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনের মধ্যে তিন কাশ্মিরি শ্রমিককে হত্যার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাসূত্রকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ১৮ জুলাই সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা শোপিয়ানের আমশিপোরা গ্রামে অজ্ঞাত তিন ‘বিদ্রোহীকে’ হত্যা করেছে। শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন তদন্তে দেখা গেছে, তারা রাজৌরি জেলার বাসিন্দা ছিলেন, যাদের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল তাদের পরিবার। 

ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘সেনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে আমশিপোরা অভিযানের বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে যা থেকে ধারণা করা যায়, অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইনের (এএফএসপিএ) অধীনে প্রয়োগ করা ক্ষমতা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘তদন্তে সংগৃহীত প্রাথমিক প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমশিপোরা অভিযানে নিহত তিন অপ্রমাণিত সন্ত্রাসী হলেন ইমতিয়াজ আহমেদ, আবরার আহমেদ ও মোহাম্মদ ইবরার। তারা রাজৌরি থেকে ফিরছিলেন। তাদের ডিএনএ প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। সন্ত্রাস বা এ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে তাদের যোগসূত্রের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’

এর আগে পুলিশের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ওই অভিযানে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। ঘটনার কিছুদিন পরে নিহত তিন ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই তাদের শনাক্ত করেন স্বজনেরা এবং বেআইনি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করেন। 

শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতির পর নিহত ইবরারের চাচাতো ভাই নসিব খাতানা জানান, নিহতরা সবাই একে অপরের চাচাতো ভাই ছিলেন। তারা কাজের উদ্দেশ্যে রাজৌরি থেকে শোপিয়ান গিয়েছিলেন। নসিব বলেন, ‘তারা ১৭ জুলাই শোপিয়ান পৌঁছায় এবং ওই রাতেই শেষবার তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমাদের। এটা লকডাউনের সময় ছিল, তাই আমরা ভেবেছিলাম তাদের হয়তো কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম, তবে কোনও খবর ছিল না।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা ছবি দেখার পর স্বজনদের চিহ্নিত করে অভিযোগ দায়ের করি। তাদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী। নিরপরাধ মানুষদের সঙ্গে তারা আর কত অন্যায় করতে পারে!’  

ভুক্তভোগী আরেক পরিবারের এক সদস্য জানান, স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেও তা এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনও ফলাফল আসেনি। আজ প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন করে ডেকে নিয়ে তারা স্বীকার করেছে, তিনজনকে একটি মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই তাদের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে এনে সাজা দেয়া হোক। আমরা পরিবারের সদস্যদের মরদেহ চাই।’ 

জুলাইয়ের ওই কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ইবরার। তিনি পড়াশোনার জন্য দিনমজুরের কাজ করে অর্থ জমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আইরিস নিউজ বিডি.কম
error: আইরিস এর অনুমতি নাই !!!